1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯ মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী আমরা আজ নব্য স্বৈরাচারের গন্ধ পাচ্ছি : শহীদ ফাইয়াজের বাবা যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বৃষ্টিও মারা গেছেন সিলেট-ময়মনসিংহে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাস ভাড়া বাড়ানো হয়নি, সমন্বয় করা হয়েছে : পরিবহনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার আওয়ামী লীগের সময়ের সার ডিলার বাতিল ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১৬৪৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৮৩৪ কোটি টাকা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাল সনদধারী আরো ৮১৭ জন শিক্ষককে শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ)। এ নিয়ে জাল সনদে চাকরি করা ১ হাজার ৬৪৯ শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু টাকা উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ৬৭৮ শিক্ষকের চলমান বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। বাকি জাল সনদধারী শিক্ষকরা বেতনও পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিআইএ ২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর ২০২৬ সালের গতকাল পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিন তদন্ত করেছে ডিআইএ।

ডিআইএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৮১৭ জন। এরমধ্যে ৫০০ জন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। আগামী রবিবার এই তালিকাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে ডিআইএ। বাকিগুলো স্কুল-কলেজের শিক্ষক। গত সপ্তাহে ৪৭১ জন জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধ, মামলা, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

ডিআইএ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ১৫৪ জন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর মন্ত্রণালয় ঐ বছরের এপ্রিলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকরা কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ফেরত আনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রহস্যময় কারণে এখনো তাদের বরখাস্ত করা হয়নি। ডিআইএর আরেকজন কর্মকর্তারা বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম খুঁজে বের করেন তারা। তবে মন্ত্রণালয়ের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারণে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ না হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও রোধ করা যাবে না।

ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় মোট ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছিলেন। এছাড়া কম্পিউটার সনদ জাল করে চাকরি করছেন ২২৯ জন। আর ৪৮ জন শিক্ষকের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ময়মনসিংহের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারীদের তালিকাটি চিঠির মাধ্যমে মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু তাদের বেতন-ভাতা মাউশির মাধ্যমে দেওয়া হয়, এজন্য এ বিষয়ে মাউশিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাল সনদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিআইএর জনবল সংকট রয়েছে। এছাড়া নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। জাল সনদ এবং প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি প্রতিটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।’

২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিআইএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের পুলিশ খ্যাত সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজের জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সে সময় মন্ত্রণালয় জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি