1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ত্রিশালের বালুরঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, ইউএনওকে বদলি বান্ডিলের ওপরে ১০০০, ভেতরে ১০০, ব্যাংকের ভল্টের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ডিএমপির জুলাইয়ের সেরা মিরপুর বিভাগ, শ্রেষ্ঠ থানাও মিরপুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩ মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে প্রস্তাবক মঈন খান, সমর্থক গয়েশ্বর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল সাপ মারতে বাংলাদেশ থেকে ৩০ বেজি নিয়েছিল জাপান, সেই বেজি নির্মূলেই লাগল ৪৫ বছর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড কর্নেল অলির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। শিশুটির জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত সুইপারদের ডাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই নারীকে আইনী পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সুইপারদের ডেকে শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত তিন সুইপারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওই তিনজন সুপারভাইজার আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর ২ বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। শিশুটির বাবা পেশায় অটোচালক। গত ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী- সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তারা কেউ সেখানে নেই।

এ সময় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। এ সময় তার স্ত্রী জানান, গত ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে অভিযুক্ত সুইপার অমিত তাকে ডাকতে আসেন। শিশুটিকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ৬ষ্ট তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গন নামে অপর দুই সুইপারের সহায়তায় অমিত তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় পুরো ঘটনাটি অনিল ও প্রাঙ্গন মোবাইলে ভিডিও করে।

অমিতসহ অন্যরা ঘটনাটি না জানাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এদিকে, শিশুকে রেখে তার মা চলে যাবার পর সে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় তাকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ৬ষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয় তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তাদের ওপর তখন তারা সব স্বীকার করে।

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মন্নাফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, অমিত আমাকে ধর্ষণ করে। অপর দুজন ভিডিও করে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাটি জানার পর কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি জানা আছে। মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি