1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ইয়াসিনের লাশের অপেক্ষায় এক বছর পার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন ইয়াসিন মিয়া শেখ। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দেশে ছেড়ে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। সেখানে একটি কোম্পানিতে কয়েকমাস চাকরি করার পর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে

২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যুদ্ধ চলাকালেন মিসাইল হামলায় প্রাণ হারান তিনি। এরপর কেটে গেছে এক বছরের বেশি সময়। কিন্ত এখনো‍ দেশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সক্রিয় সৈনিক ইয়াসিনের লাশ দেশে ফেরত আনতে পারেনি পরিবার।

ইয়াসিনের মা ফিরোজা বেগমের একটাই আকুতি ছেলের লাশটা যেন দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করে দেয় সরকার। আর ঋণের চাপে দিশাহারা বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ চেয়েছেন ক্ষতিপূরণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার একটি কলেযে ডিগ্রি পাস কোর্সে পড়াশোনা করতেন। স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ইয়াসিন জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন। ৭ জুলাই কলেজের ক্লাস বর্জন করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর প্রতিটি কর্মসূচিতেই তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াসিনের বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে ভর্তি চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে দেশ ত্যাগ করেন ইয়াসিন। সেখানে কায়েক মাস চাকরির পর ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ইয়াসিন নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করতেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারান ইয়াসিন। গত ১ এপ্রিল রাশিয়ায় থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে ইয়াসিনে মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার।

ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তাদের বাড়িতে গিয়ে সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি একটি ঘরর উপহার দেওয়ারও আশ্বাস দেন তারা।

ইয়াসিনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ছেলের শোকে পাগলপ্রায় মা ফিরোজা বেগম। সারাক্ষণ ইয়াসিনের ছবি বুকে নিয়ে কান্নাকাটি করেন। শয্যাশায়ী মায়ের কণ্ঠে একটাই আকুতি- ছেলের লাশ যেন দেশে ফেরত আসে। ছেলের লাশটা তিনি দেশের মাটিতে দাফন করতে চান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফিরোজা বেগম বলেন, আমার ছেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছে। স্বৈরাচার পতনের পর সে রাশিয়া যায় কোম্পানিতে চাকরি করতে। সেখানে কয়েক মাস চাকরির পর রাশিয়ান সেনবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যোগদান করে যুদ্ধে প্রাণ হারায়। এক বছর হয়ে গেল এখনো ছেলের লাশ টা পেলাম না।

ইয়াসিনের বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ বলেন, রাশিয়ার রস্তু বন্ধন ক্যান্টনম্যান হাসপাতালে ইয়াছিন মিয়া শেখের মৃতদেহ সুরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি অবগত করে দ্রুত লাশ আনার দাবী জানিয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করা হয়। একের পর এক পত্রালাপ হলেও তার ভাইয়ের লাশ বা ক্ষতিপূরণ কিছুই পায়নি এখনো পরিবার।একদিকে ছোট ভাই হারানোর শোক, অন্যদিকে ভাইয়ের বিদেশগমনের ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবো এই চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যেহেতু সে বিদেশে মৃত্যু বরণ করেছে, তাই ভাইয়ের লাশ ও ক্ষতিপূরণ যেন পাই এটাই সরকারের কাছে দাবি।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, ছাত্রদলের কর্মী ইয়াসিন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাশিয়া পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এক বছর ধরে তার লাশটি এখনো সেখানেই পড়ে আছে। লাশ দ্রুত দেশের আনার পাশাপাশি পরিবার যেন ক্ষতিপূরণ পায় এটাই সরকারের কাছে দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি