1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ত্রিশালের বালুরঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, ইউএনওকে বদলি বান্ডিলের ওপরে ১০০০, ভেতরে ১০০, ব্যাংকের ভল্টের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ডিএমপির জুলাইয়ের সেরা মিরপুর বিভাগ, শ্রেষ্ঠ থানাও মিরপুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩ মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে প্রস্তাবক মঈন খান, সমর্থক গয়েশ্বর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল সাপ মারতে বাংলাদেশ থেকে ৩০ বেজি নিয়েছিল জাপান, সেই বেজি নির্মূলেই লাগল ৪৫ বছর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড কর্নেল অলির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা

যুবলীগ ক্যাডার থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা জিতু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী কারিগরপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে জিতু সরকার ওরফে জিতু ইসলাম (৪৩)। পারিবারিক শিক্ষা ও সঠিক শাসনের অভাবে উঠতি বয়সেই প্রবেশ করে অপরাধজগতে। বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচা, সব কিছুতেই চাঁদা দিতে হতো জিতুকে। কমপক্ষে দুই ডজন চিহ্নিত ক্যাডারের নেতৃত্ব দিতেন জিতু।

বেআইনি ও বেপরোয়া সাহসিকতায় অল্প দিনেই গড়ে ওঠে জিতু বাহিনী।

২০০৩ সালে ফুলবাড়ী বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলামকে হত্যা করে আলোচনায় উঠে আসেন জিতু। এরপর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রহমতুল্লাহ মনিরের সঙ্গে ব্যাবসায়িক সখ্যতা গড়ে তুললেও পরবর্তীতে খোলস পাল্টে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে।

সূত্রের দাবি, শহরের ফুলবাড়ী করতোয়া নদীর বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলামকে হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তার হন জিতু ইসলাম।

মামলার রায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। কয়েক বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রহমতুল্লাহ মনিরের সঙ্গে ব্যাবসায়িক সখ্যতা গড়ে তোলে। ঘনিষ্ঠ হন জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনসহ শীর্ষ নেতাদের। শুরু হয় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক কারবারি, বালু লুটসহ নানা রকম অপরাধ।

গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অবস্থা বেগতিক বুঝে অসৎ উপায় অবলম্বন করে সখ্যতা গড়েন স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতাদের সঙ্গে। খোলস পাল্টে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন।

বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এর সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বিটু জানান, জিতু যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাহিনীর সদস্যরা যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কতিপয় বিএনপি নেতার কারণে জিতুর মতো অন্যদল থেকে আসা সন্ত্রাসীরা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনে পদ পেয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, দলের নাম ভেঙে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন জিতু। ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি এলাকাবাসী। দুই বছরে জিতুর কাছ থেকে প্রায় অর্ধলাখ পাওনা হন এক দোকানি। টাকা চাওয়ায় মারধর করে ভয় দেখান জিতু।

অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাইত জিতু বাহিনী। না দিলে হুমকি দিয়ে মারধর করতেন।

বগুড়া বার সমিতির জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক এবং মানবাধিকার কর্মী কে জি এম ফারুক জানান, জিতুর মতো খুনি, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারিকে দলে পদ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। গ্রেপ্তারের পর শুধু সংগঠন থেকে বহিষ্কার করলেই হবে না। বরং এ ধরনের ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই দলীয় পদ না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

নিহত শাকিলের হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদ জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা জিতু ও তার বাহিনীর সকলের ফাঁসি দাবি করে মানববন্ধন ও পথসভা করছে প্রতিবেশি-স্বজনসহ বাসদ, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী।

বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল জানান, জিতু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, এটা তাদের জানা ছিল না। কোন ব্যক্তির একক কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন বহন করবে না। অটোরিকশা চালক শাকিলকে হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ঘটনার দিনই জিতুকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান জিতু ইসলামকে বহিষ্কার করেন।

জিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়েদ খান জানান, ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জিতু ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের নথিতে জিতুর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, দুটি ডাকাতির চেষ্টা, চুরি, মাদক মামলাসহ ৭টি মামলা রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বসির এবং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক টিম আসামি গ্রেপ্তারে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিতুসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আলমাস আলী জানান, তারা নিহত পরিবারের সুরক্ষায় বাড়ির চারপাশে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি