1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কারামুক্ত আ.লীগ নেতাকর্মীদের বরণ করতে গিয়ে ফুলের মালাসহ আটক ৪ বাংলাদেশ চায় হাসিনা এবং হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত হোক ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার খাতা পুনঃপরীক্ষণ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন খুলে গান গাওয়া যায়, নাম্বার দেওয়া যায় না : শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির ফল প্রকাশ : ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জালিয়াতির মহোৎসব
ময়মনসিংহে এক প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শিক্ষকের ৫৭ জনই ‘অবৈধ’!

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্তে চলমান অভিযানে উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) জানায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তদন্ত চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৭ জনের সনদই ‘জাল’ বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি এখন প্রশাসনিক তদন্তাধীন থাকায় প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) সনদ যাচাইয়ের জন্য দুই পদ্ধতি ব্যবহার করছে—সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং। সন্দেহজনক ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জাল প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বেতন বন্ধ এবং অবৈধভাবে নেওয়া সরকারি অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইএ’র একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে অনেক কিছু শনাক্ত করেছি, কিন্তু সব তথ্য যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ড ও অন্যান্য সংস্থার তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে শুধু জাল সনদ নয়, অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ এবং অনুমোদনহীন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের ঘটনাও রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসি (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে, এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি জালিয়াতি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা এবং নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইএ’র আরেক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাই শিক্ষাব্যবস্থা একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ অবস্থায় ফিরে আসুক। জাল সনদধারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। জাল সনদের উৎস চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ডিজিএফআই, এনএসআই ও ডিএসবি’র তৎপরতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ১৮ মাসে ডিআইএ প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ জন নতুন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত করেছে। এর আগে প্রথম ধাপে ১৭৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এছাড়া গত এক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৩০ জন এবং মাদ্রাসা খাতে ১৩৬ জনসহ মোট ৪৬৬ জনের জাল সনদ নতুন করে শনাক্ত হয়েছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে জাল সনদ শনাক্তের কাজ চালাচ্ছি। সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। প্রমাণিত হলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা চাই প্রাথমিক শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর প্রক্রিয়া চালু হোক।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শিক্ষাখাতে জাল সনদ ও অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি