1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুরে মাটির নিচে ‌‘রহস্যময়’ সুড়ঙ্গ, ভেতরে মিলেছে বিছানা-বালিশ নদীর ঘাটে লুকানো ছিল ১৫ ব্যারেল তেল এসএসসির প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি গুজব, সিটিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ‘আদুভাই’ ছড়ি ঘোরাক, এটা দেখতে চাই না’ বিমানের পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠন, নতুন চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯ মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫

ফিলিস্তিনের ওপর দখলদার ইসরায়েলের নির্মম হামলার প্রতিবাদ ও গাজাবাসীর ডাকা হরতালের সমর্থনে সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে সারা দেশে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেয়। বিক্ষোভ-সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ।

ময়মনসিংহ

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ। এ সময় ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে নগরীর সবকটি রাজপথ।

সোমবার দুপুরে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে এ বিক্ষোভ পালন করেন নগরীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজসহ ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন।

এর আগে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও স্কুল, কলেজ থেকে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে টাউন হল মোড়ে এসে জমায়েত হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ করে তৌহিদি জনতা। এতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজায় নিরীহ শিশু, নারী এবং সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানো হচ্ছে। বর্বর এই হামলায় পাথির মতো মরছে মানুষ। কিন্তু জাতিসংঘসহ বিশ্ব মোড়লরা এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করছে না। আমরা এই মানবাধিকার লংঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইসরায়েলের বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখনই সময় বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে এক হয়ে ফিলিস্তিন স্বাধীন করার। অন্যথায় ভূলুন্ঠিত হবে বিশ্ব মানবতা।

শরীয়তপুর

দখলদার ইসরাইল কর্তৃক নিরীহ ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের উত্তর বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইদ্রিস আলী কাশেমীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মাওলানা সাব্বির আহমেদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিরীহ ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাচ্ছে না। বছরের পর বছর এমন বর্বরোচিত হামলা হলেও জাতিসংঘসহ বিশ্ব মোড়লরা চুপচাপ রয়েছেন। বিশ্ব বিবেকের এমন নীরবতা পৃথিবীর সকল মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। যদি জাতিসংঘ ইসরায়েলের এই হামলা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ না করে তবে বিশ্ব মুসলিম জিহাদ করে ইসরায়েলকে সমুচিত জবাব দেবে। বক্তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বানও জানান।

নড়াইল

গাজায় নির্বিচারে মুসলমানদেরকে গণহত্যার প্রতিবাদে নড়াইলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি নড়াইল পুরাতন বাস টার্মিনাল মুক্ত মঞ্চ এলাকা থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে শেষ হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার সভাপতি আল শাহরিয়া আমিন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ইমাম হাসান সেলিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মখ্যপাত্র নুসরাত জাহান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নওয়াব মোল্যা প্রমুখ।

বাগেরহাট

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাগেরহাট। সোমবার বেলা ১১টায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জিহাদ জিহাদ জিহাদ চাই, জিহাদ করে বাঁচতে চাই, ফিলিস্তিনে হামলা কেন? জাতিসংঘ জবাব চাই, বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়, ফিলিস্তিন স্বাধীন করো, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন চাই, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব বিবেক আজ নির্বিকার। কোথায় সেই মানবাধিকার? যেখানে শিশু, নারী, সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, সেখানে জাতিসংঘসহ বিশ্বশক্তি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

জয়পুরহাট

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

জয়পুরহাট জেলাবাসী ও ছাত্র জনতার ব্যানারে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

এ সময় তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার, ফিলিস্তিনে হামলা কেন, জাতিসংঘ বিচার চাই, জিহাদ জিহাদ চাই, জিহাদ করে বাঁচতে চাই, ইউ হু আই হু, প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন, ইসরায়েলি পণ্য বয়কট চাই, বয়কট চাই, জেগেছেরে জেগেছে, মুসলিম বিশ্ব জেগেছে, ইজরায়েলের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

পরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জয়পুরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুল হক সানজিদ, সদস্য সচিব মুবাশীর আলী শিহাব, সিনিয়র যুগ্ম সচিব নিয়ামুর রহমান নিবিড়, যুগ্ম সদস্য সচিব মোবাশ্বের হোসেন, সংগঠক ফাহিম ফয়সাল রাফি, সাজিনসহ প্রমুখ।

কুষ্টিয়া

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি এনএস রোডের কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে সামনে থেকে শুরু হয়ে চৌড়হাস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর তারা সেখানে অবস্থান করেন এবং বক্তব্য দেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে ফিলিস্তিনের ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নৃশংস হামলা ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। একইসঙ্গে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী নৃশংস হামলা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। গাজা ও রাফা সীমান্তে অসংখ্য ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অথচ ফিলিস্তিনে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব নীরব ভূমিকা পালন করছে।

নওগাঁ

ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইজরায়েল কর্তৃক গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী ডাকা হরতালের সমর্থনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছেন নওগাঁ সরকারি কলেজ এবং নওগাঁ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা শহিদ ফাহমিন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, নেতানিয়াহুর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে, স্টপ জেনোসাইডসহ নানা স্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করেন।

দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের সামনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান বর্বরতার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে সংহতি জানিয়ে অনেক বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দুই হাজারের বেশি লোক অংশ নেয়।

সমাবেশে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যখন কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন চলে তখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়। কারণ এখানে যারা থাকে তারা বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়। সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলতে চাই যদি তোমরা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে চাও তাহলে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। জ্ঞানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তাদের প্রতিহত করতে হবে। জাতিসংঘ-ওআইসি কাজে আসবে না। তোমরা নিজেদের যোগ্য করে তোলো, যেন আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখে যেতে পারি।

গাইবান্ধা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বর্বরতা, গণহত্যা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং বিশ্বব্যাপী মজলুম গাজাবাসীদের আহুত হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার সকালে গাইবান্ধা শহরের পৌর শহীদ মিনার চত্বর থেকে সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহর ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও আলাদা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে যোগ দেন এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ফিলিস্তিনে হামলা কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই, বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়, ফিলিস্তিন স্বাধীন কর, ইসরায়েলের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, ইসরায়েলি পণ্য বয়কট বয়কট’ ইত্যাদি প্রতিবাদী স্লোগানে গোটা শহর মুখর করে তোলেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শেখপাড়া বাজারের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর, ফিলিস্তিনে হামলা কেন জাতিসংঘ জবাব দে, বিশ্বের মুসলিম এক হও লড়াই করো, অ্যাকশন টু অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, বিশ্বের মুসলিম এক হও লড়াই করো, বিশ্ব মুসলিম জাগোরে জাগো, বয়কট বয়কট ইসরায়েল বয়কট, ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন, স্টপ জেনোসাইড’ ইত্যাদি স্লোগানে ফেটে পড়েন।

লক্ষ্মীপুর

গাজা ও রাফায় ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যাসহ বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে নেতানিয়াহুর কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা কুশপুতুল বানিয়ে আগুন দেয়।

এর আগে চকবাজার জামে মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উত্তর তেমুহনী এলাকায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সকালে একই দাবিতে উত্তর তেমুহনীতে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ও দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে হরতাল-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট নজির আহমেদ, নায়েবে আমির এআর হাফিজ উল্যাহ, সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন প্রমুখ।

নরসিংদী

গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও নৃশংসতার প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের শিক্ষা চত্বর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করের লোকজন। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সমন্বয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি নরসিংদী প্রেসক্লাব এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জেলখানার মোড় শহীদ তাহমিদ চত্ত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

পরে বেলা সোয়া ১১টা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিক্ষোভকারীরা অংশ নেন। তারা ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, গাজায় হামলার বিচার দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ত্যাগ করেন।

ভোলা

ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্বব্যাপী ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে ভোলায় প্রতিবাদী মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম ভোলা সদর উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জেলা শহরের খলিফাপট্টি জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে বাংলাস্কুল মোড় হয়ে নতুন বাজার ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় নানান প্রতিবাদী স্লোগান দেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজায় নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল। আমরা ঘরে বসে থাকব না, মার্চ ফর ফিলিস্তিন। প্রয়োজনে ফিলিস্তিনে গিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

নোয়াখালী

শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্র-জনতার ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মিছিল নিয়ে জেলার প্রধান সড়কে জড়ো হয়ে অবরোধ করে তারা। একই সময় জেলার সেনবাগ উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে মিছিল নিয়ে বের হয় ছাত্র-জনতা। এতে সাধারণ মানুষকেও জড়ো হতে দেখা যায়। এ সময় সড়কের দুই পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল শুধু মুসলমানদের জন্য কর্তব্য নয় এটি সমগ্র মানবজাতির কর্তব্য। ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজায় যে গণহত্যা চালাচ্ছে এটি মানবতাবিরোধী কাজ। অতএব যারা মানবতার দাবিদার, যারা মানব সেই সমস্ত মানবদের জন্য হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানানো জরুরি। মুসলিম অমুসলিম সকলকেই সোচ্চার হতে হবে।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার বাদ জোহর শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করে।

আল্লামা সাজিদুর রহমান আরও বলেন, মহানবী বলেছেন ইহুদীরা মুসলিমদের প্রধান শত্রু। ইহুদিরা ইসলামের শুরু থেকেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। তার অবিলম্বে বিচার হওয়ার দরকার। এমন একদিন আসবে ইসরাইলের কোনো চিহ্ন পৃথিবীর বুকে থাকবে না। তাই আমাদের কর্তব্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে কোনোভাবেই হোক প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে।

কিশোরগঞ্জ

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ গণহত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নো ক্লাস, নো এক্সাম, নো স্কুল কর্মসূচি পালন করেছেন । সোমবার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ কর্মসূচিতে ইনস্টিটিউটের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

একই সময় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়মোড় এলাকায় গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ গণহত্যার প্রতিবাদে তৌহিদি জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভৈরব ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইহুদিরা মুসলিম নিধন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হন।

শেরপুর

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের দাবিতে শেরপুরে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ শীর্ষক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত এই বিক্ষোভ সমাবেশ চলে।

শেরপুরের সকল তৌহিদি জনতার ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় স্লোগান দেন ‘ইসরায়েলের কালো হাত, ভেঙে দাও ভেঙে দাও, ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ইসরায়েলি পণ্য, বয়কট বয়কট, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’।

নারায়ণগঞ্জ

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। এ সময় নানান প্ল্যাকার্ডে ইসরায়েলি বর্বরতার বিপক্ষে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া গোল চত্বরে ফিলিস্তিনে ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ। একই প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শ্রেণি পেশার মানুষ।

পটুয়াখালী

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান বর্বর হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও বিশেষ দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টা থেকে শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান ফোর লেন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানদের শান্তি কামনা ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতির জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি ও বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আবু সাইদ।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি বলেন, গাজায় যে রক্তপাত হচ্ছে, তা সহ্য করা যায় না। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রতিবাদ জানানো ফরজ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

গাজায় ইজরায়েলের চলমান গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ঘোষিত ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে ছাত্রশিবির চবি শাখার দাওয়া সংগঠন মিনারের ব্যানারে এ বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ জনতা অংশ নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবির চবি শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, গাজায় প্রতিনিয়ত যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা শুধু ফিলিস্তিনিদের ওপর নয়; বরং গোটা মানবজাতির বিবেকের ওপর নির্মম আঘাত হানছে। শিশু, নারী ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ মানব সভ্যতার জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এই অপরাধকে আরও উৎসাহিত করছে।

ঠাকুরগাঁও

ফিলিস্তিনে চলমান নির্মম গণহত্যা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্র-জনতা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি, ইস্ট টু ওয়েস্ট, নো ফ্লো টু জায়োনিস্ট, ফিলিস্তিন মুক্তি পাক, ইসরায়েল নিপাত যাক, ইনকিলাব ইনকিলাব, আল আকসা জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকেই শহরের জেলা স্কুল বড় মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সমন্বয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

এ সময় ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, হামলার বিচার দাবিসহ অন্যান্য স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিক্ষোভস্থল। গাজাকে রক্ষার পাশাপাশি দাবি ওঠে ইসরায়েলের বিচারের। পরে দুপুর ১টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে যান বিক্ষোভকারীরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় ইসরায়েল ও ভারতের পতাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি আগুনে পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সোমবার দুপুর ১২টায় তৌহিদি ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বারের মোড় থেকে শুরু হয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তন ও ছাত্রী হলের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে কামাল-রণজিত (কেআর) মার্কেটে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। সেখান থেকে মিছিলটি সমাবর্তন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সমাবর্তন চত্বরে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা কর্মসূচি পালিত হয়েছে বরিশালে। সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়কে নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দিনভর কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দল।

সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে ছাত্র জনতার ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়। সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিক্ষোভ সহকারে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘গাজা বাঁচাও, ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ কর, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার চাই, মানবতার শত্রু নেতানিয়াহু, শিশু হত্যাকারী নেতানিয়াহু’ এমন নানা পোস্টার প্রদর্শন করেন এবং যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেন।

জোহরের নামাজ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা ও মহানগরের আয়োজনে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।

রাঙামাটি

ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সোমবার সকালে নো ওয়ার্ক, নো ক্লাস কর্মসূচির পর দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাধারণ মানুষ শহরের দোয়েল চত্বরে সমাবেশে যোগ দেয়।

সেখানে প্রতিবাদকারীরা ইসরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় আরব বিশ্বের নেতাদের নীরবতার সমালোচনা করেন এবং ইসরায়েলী পণ্য বয়কটের ডাক দেন।

জোহরের নামাজের পর শহরের তিনটি প্রধান এলাকা রিজার্ভ বাজার, বনরূপা, ও তবলছড়ি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র দোয়েল চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামী ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন ইসলামিক দল সংহতি প্রকাশ করে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিবাদে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট, পার্কের মোড় শহীদ আবু সাঈদ চত্বর, শহীদ আবু সাঈদ গেট প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত সংহতি সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বিক্ষুব্ধ মানুষের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণের ওপর ইসরায়েলের নির্বিচারে হত্যা ও তাদের ঘরবাড়ি স্থাপনায় হামলার নৃশংসতা সারা বিশ্বের মানুষ দেখছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত জনমত গড়ে তোলা এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে নিরীহ ফিলিস্তিনের পাশে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য।

নাটোর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যা ও দখলদারিত্বের প্রতিবাদে এবং গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজার সমর্থনে নাটোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহরের কানাইখালি এলাকায় সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও অংশগ্রহণ গ্রহণ করতে দেখা যায়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘বিশ্বের মুসলিম, এক হও লড়াই করো, তুমি কে আমি কে, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, ইসরায়েলের পণ্য , বয়কট বয়কট, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী দেবাশীষ কুমার সরকার বলেন, আমরা সকল অন্যায় অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্ধে। ইসরাইলের যা হচ্ছে তার রীতিমতো জুলুম। দখলদার ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ দেখে মানবতজাতি আজ বাকরুদ্ধ।

নীলফামারী

গাজায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নীলফামারীর সর্বস্তরের জনগণ। চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে সর্বাত্মক অবরোধের ডাকে সাড়া দিয়েছে তারা। বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলার চৌরঙ্গী মোড়ে গণহত্যার প্রতিবাদে ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ কর্মসূচি করে নীলফামারীর ছাত্র-জনতা। তারা চৌরঙ্গী মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। পরে মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো চৌরঙ্গী মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

দ্য ন্যাশনাল অ্যান্ড ইসলামিক ফোর্সেস ইন প্যালেস্টাইনের ডাকা বিশ্বজুড়ে সর্বাত্মক অবরোধে সাড়া দিয়ে নীলফামারী সরকারি মেডিকেল কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি কলেজ সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস ও পরীক্ষা অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন। এ সময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টরা যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সে দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি