বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় তাঁদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে এবং তাঁরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে, তাহলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও কোনো শপথই নেবেন না।
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের দৃষ্টিতে সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। তাই সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্যে তারা রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন না। তিনি ইঙ্গিত দেন, দলীয় অবস্থান নীতিগত এবং তা রাজনৈতিক সমন্বয়ের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি রেখেছে সংসদ সচিবালয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ পাঠ করানোর কথা রয়েছে।
তবে বিএনপি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না। এ অবস্থায় জামায়াতের ঘোষিত অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। সেই বিবেচনায় সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ছাড়া কেবল আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্যে তারা বাস্তব অর্থ খুঁজে পান না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ভবিষ্যৎ সংসদীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বা অনুপস্থিতি সংস্কার প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ এলাকায় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে গড়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে দলগুলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।