কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় নিহত সাত বছরের শিশু সাইয়েদার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের তোফায়েল আহমেদ জামে মসজিদ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দুই বছর আগে মারা যাওয়া বড় ভাই রোমানের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো ছোট্ট সাইয়েদা।
আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চর মনসা গ্রামে সাইয়েদার মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়িটি গ্রামে পৌঁছায়, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সহপাঠী, স্বজন আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাইয়েদার মা রাজিয়া বেগম। মেয়েকে শেষবারের মতো দেখার আকুতিতে তিনি যেন ছটফট করছিলেন। চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ছুটে আসেন গ্রামের বাড়িতে। নিথর মেয়ের কপালে শেষ চুমু খেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। স্বজনরা জানান, দাফন শেষে তাকে আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হবে।
সাইয়েদার চাচা মোশাররফ হোসেন চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাতিজি সাইয়েদা মাত্র সাত বছর বয়সেই ত্রিশ পাড়া কোরআন মুখস্থ করেছিল। এবারের রমজানে একটি রোজাও ছাড়েনি। এমন নিষ্পাপ একটা বাচ্চার এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।
তিনি আরও জানান, সাইয়েদার বড় বোন তাসনীমা তাবাসসুম আফনান বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অন্যদিকে বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলাও গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ছোট মেয়ের শেষ বিদায় দেখতে পারেননি।
নিহতের ফুফা আব্দুর রব কাঁদতে কাঁদতে বলেন,এত ছোট্ট মেয়েটার এমন মৃত্যু—আল্লাহর কাছে আর কী বলবো! আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
চাচী সাহিনুর সুলতানা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,সাইয়েদা খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। সারাদিন কোরআন পড়তো। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।
আত্মীয় আশরাফ আলী বলেন,দুই বছর আগে বড় ছেলেকে হারানোর পর এই পরিবারটা কোনোভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। এবার ছোট মেয়েকেও হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
এর আগে গত শনিবার গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে সাইয়েদাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন। আহত হন তার বাবা, মা, বোনসহ আরও অনেকেই।