1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুরে মাটির নিচে ‌‘রহস্যময়’ সুড়ঙ্গ, ভেতরে মিলেছে বিছানা-বালিশ নদীর ঘাটে লুকানো ছিল ১৫ ব্যারেল তেল এসএসসির প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি গুজব, সিটিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন থেকে সরে যেতে বলায় ইউএনওকে ধাওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ‘আদুভাই’ ছড়ি ঘোরাক, এটা দেখতে চাই না’ বিমানের পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠন, নতুন চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রিশাল মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯ মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রথম অধিবেশনে হাসিনার দুর্নীতি, লুটপাট এবং জুলাই গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবারের ভাষণে প্রাধান্য পাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপশাসনের নানা দিক।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির ভাষণে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনসহ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলোও ভাষণে গুরুত্ব পাবে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। ওই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয় এবং সংসদ সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও ভাষণটি রাষ্ট্রপতি নিজে প্রস্তুত করেন না; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ খসড়া তৈরি করে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সেটিই রাষ্ট্রপতি পাঠ করেন। জানা গেছে, এবারের ভাষণের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে।

হাসিনার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মুখেই উঠে আসবে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনসহ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রিপোর্ট শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যেই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। আমরাও ভাষণের খসড়া চূড়ান্ত করেছি। এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। ভাষণটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন সংসদের ভাষণের প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়েছে বেশ আগেই

প্রায় তিন মাস আগে সদ্য বিদায়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। নতুন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া তৈরির বিষয়টি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসেছিল ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি। ওই অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উপস্থাপনের জন্য ১৪৩ পৃষ্ঠার ভাষণ তৈরি করা হয়েছিল। এবারের ত্রয়োদশ অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেড়শ পৃষ্ঠার মতো হতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা তথ্যগুলো সংযোজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা তথ্যগুলো সংযোজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, দেড়শ পৃষ্ঠার ভাষণ হলেও রাষ্ট্রপতি তার পুরোটা পাঠ করবেন না। তিনি ভাষণের চুম্বক অংশ সংসদে পড়ে শোনাবেন। বাকিটা স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে সংসদে পঠিত বলে গণ্য হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানিয়েছে, ভোটারবিহীন ও প্রহসনের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় টিকে থাকা ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিবরণ থাকছে এবারের রাষ্ট্রপতির ভাষণে। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, গুম, খুন ও আয়নাঘরের মাধ্যমে নিপীড়নের খতিয়ানও থাকছে রাষ্ট্রপতির ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ও থাকছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে। জুলাই বিপ্লবে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যানও থাকছে এ ভাষণে।

১২ মার্চের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১২ মার্চ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এতটুকুই জানি। এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের কাছে রাষ্ট্রপতির ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে প্রদেয় ভাষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য নেই।

হাসিনা-বন্দনা ছিল দ্বাদশ অধিবেশনের প্রেসিডেন্টের ভাষণে

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসলে তিনি ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার শপথবাক্য পাঠ করান। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন ৩০ জানুয়ারি সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিলেও তা ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের জয় হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণে বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শক্তি আরো সুদৃঢ় হয়েছে।’

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বিএনপিসহ দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওই সময় বিএনপিসহ নির্বাচন বর্জনকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রপতি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন, নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল সহিংসতা ও সংঘাত সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের শান্ত-স্নিগ্ধ যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের গণতন্ত্রবিরোধী ও সহিংস কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে জনগণকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাখলেও গণতন্ত্রের শাণিত চেতনা ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারেনি। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব পদক্ষেপ স্বার্থক হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে। দেশের সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করায় তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় সব ভোটার, বিশেষত নবীন ও নারী ভোটারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়, বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে গত দেড় দশকে আর্থ-সামাজিক খাতসহ সব খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।

-দ্য ডেলটা লেন্স

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি