জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের সময় মন্ত্রী ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তারা তখন কেন পদত্যাগ করেননি, সম্প্রতি এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, দু–একজন নেতা এখন বলছেন, ঠিক আছে আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দুই নেতা সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ তারা পর্যায়ক্রমে তিন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। যতদিন ওই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, ওই সময়টাতে আমাদের প্রতিপক্ষ শক্ত কোনও সমালোচক বা শত্রুও আঙুল তুলে বলতে পারেনি যে, তারা অসৎ ছিলেন এবং তারা দুর্নীতিপরায়ণ ও স্বজনস্মৃতিপরায়ণ।’
গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল।
বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? কারণ, তাঁরা সরকারে ছিলেন এবং ভালো করেই জানতেন যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।’ এর প্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে।
বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান সেটি দেখা হবে না। এক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।
উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের কাজ করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি শফিকুর রহমান আহ্বান জানান।