1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাড়িতে মাদক-জুয়ার আসর, অতিরিক্ত ডিআইজিকে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে: স্পিকার হাফিজ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ‘আপনাদের মন্ত্রী কমিশন খান না, জোর গলায় বলবেন’—নেতাকর্মীদের আইনমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত অন্তত ৩০ ‘পবিত্র উদ্দেশ্যে মক্কায় যান মানুষ, এমন অপরাধ হতাশাজনক’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদ্মায় ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা-ইটপাটকেল, আটক ৩৬ জেলে

গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

গাজীপুরের কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে।

ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে রয়েছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এসব পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অতিরিক্ত জনবলের কারণে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। তাঁদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকেই।

কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছি। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই চিন্তার বিষয়।”

প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন আবেদা বেগম। চাকরি হারানোর পর কারখানার ফটকের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আবেদা বলেন, “এত বছর চাকরি করে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে।”

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি তাঁদের পুনর্নিয়োগের বিষয়েও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাঁদের চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান এ ছাঁটাইয়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচবার লে-অফের পর কেয়া নিট কম্পোজিটের ৭৩৯ শ্রমিককে এক নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানান তিনি।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি