ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে তারা ১০ দফা শর্ত দিয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেনে নিতে ‘বাধ্য’ হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরানিয়ান ইসলামিক রিপাবলিক ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এছাড়া দেশটিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সব প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত বাতিল, সংঘাতে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে তালিকায়।
ইরানের ফার্স বার্তাসংস্থার বরাতে ওই ১০টি শর্ত বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে:
১. পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করার অঙ্গীকার।
২. ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করার পথ তৈরি করতে হবে।
৩. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর কোন ধরনের হামলা না করা।
৪. দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি। এই পারমিশন সেফ প্যাসেজ প্রটোকল এবং ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হবে।
৫. ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া।
৬. যুদ্ধের কারণে ইরানকে ক্ষতি পূরণ দিতে একটি বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠন করা।
৭. পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করার ইরানের অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়া এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে আলোচনা করা।
৮. মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার অনুমতি দেয়া।
৯. মধ্যপ্রাচ্যের সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনাগ্রাসন নীতি সম্প্রসারণ করা।
১০. সব প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা।
এছাড়াও লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধ করার শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বলা হয়েছে, আলোচনার সময় পারস্য উপসাগরের নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
তবে এই দাবিগুলোর কোনো স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা যায়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।